নাটোরের পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ির সেই অভিশপ্ত রাত একটি সত্য ভূতের গল্প bs bhai

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন।
আজ আমি আপনাদের সামনে একটি নতুন অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ঘটনা নিয়ে এসেছি, যা আপনাদের শরীরের লোম খাড়া করে দেবে। আমি আপনাদের সবার প্রিয় BS Bhai আজ এমন এক সত্য ঘটনার বিবরণ দেব যা এক রাতের অন্ধকারে এক সাধারণ মানুষের জীবনকে চিরতরে ওলটপালট করে দিয়েছিল।
এই রোমহর্ষক ঘটনাটি আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন আরিফুর রহমান। তিনি বাংলাদেশের নাটোর জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে এই অতিপ্রাকৃতিক ও অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার কথা আমাদের জানিয়েছেন। নাটোরের সেই ছমছমে পরিবেশের গল্পটি শুরু হচ্ছে এখন।
নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে আমার পৈতৃক বাড়ি এবং সেই গ্রামটি চারিদিকের ঘন বাঁশঝাড় আর বিশাল সব পুরনো আমবাগানে ঘেরা ছিল যার কারণে দিনের বেলাতেও সেখানে এক ধরনের থমথমে অন্ধকার বিরাজ করত। সেই বছর বর্ষার শেষ দিকে গ্রামের শেষ মাথার এক বিশাল এবং প্রাচীন দিঘির পাড়ে একটি পুরনো জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ির পাশে আমাদের একটি নতুন জমি কেনা হয়েছিল যেখানে একটি ধানের চাতাল তৈরি করার কথা ভাবছিলেন আমার বাবা। সেই কাজের তদারকি করার জন্য আমি শহর থেকে গ্রামে এসেছিলাম এবং গ্রামের একবারে নির্জন প্রান্তে অবস্থিত আমাদের সেই পুরনো মাটির দোতলা বাড়িতে একাই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কারণ আমার চাচাতো ভাইয়েরা সবাই তখন অন্য একটি কাজের সিলসিলায় শহরের দিকে ব্যস্ত ছিল। প্রথম দুই দিন সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই কাটছিল কিন্তু তৃতীয় দিন গভীর রাতে যখন ঘড়িতে ঠিক দুটো বেজে পনেরো মিনিট তখন হঠাৎ করে আমার ঘুম ভেঙে গেল এক অদ্ভুত এবং অত্যন্ত তীব্র পচা মাংসের গন্ধে যা আমার ঘরের জানালা দিয়ে হুহু করে ভেতরে আসছিল। আমি বিছানা থেকে উঠে জানালার বাইরে তাকানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু বাইরে তখন এতটাই ঘন কুয়াশা আর ঘুটঘুটে অন্ধকার ছিল যে কয়েক হাত দূরের বিশাল বাঁশঝাড়ের মাথা ছাড়া আর কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। ঠিক তখনই আমি শুনতে পেলাম এক অদ্ভুত খসখসে শব্দ যেন কেউ একজন আমাদের উঠানের শুকনো পাতার ওপর দিয়ে খুব ধীর পায়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে এবং তার প্রতিটি পদক্ষেপে এক ধরনের ভারী ধাতব নূপুরের নিক্বণ ধ্বনিত হচ্ছে যা সাধারণ কোনো মানুষের হাঁটার আওয়াজ হতে পারে না। আমি নিজের বুকের ধড়ফড়ানি চেপে ধরে জানালার কাঠের কপাটটা কিছুটা ফাঁক করে নিচে তাকানোর চেষ্টা করতেই আমার পুরো শরীর এক তীব্র আতঙ্কে হিম হয়ে গেল কারণ আমি দেখলাম উঠানের ঠিক মাঝখানে এক বিশাল অবয়ব দাঁড়িয়ে আছে যার উচ্চতা সাধারণ মানুষের চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ এবং তার শরীর থেকে এক অদ্ভুত কালচে ধোঁয়া বের হচ্ছে। অবয়বটি স্থির হয়ে আমার ঘরের জানালার দিকেই তাকিয়ে ছিল যদিও তার কোনো সুনির্দিষ্ট চোখ বা মুখ আমি দেখতে পাইনি কিন্তু এক তীব্র ও ভয়ানক অশুভ দৃষ্টি আমি আমার নিজের মনের ভেতর অনুভব করতে পারছিলাম যা আমাকে সম্পূর্ণ অবশ করে দিয়েছিল। আমি ভয়ে এক কদম পিছিয়ে আসতেই ঘরের কোণায় রাখা মাটির প্রদীপটি কোনো বাতাস ছাড়াই দপ করে নিভে গেল এবং সাথে সাথে ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা এতটা নিচে নেমে গেল যেন মনে হচ্ছিল আমি কোনো বরফঘরের ভেতরে আটকা পড়ে গেছি। সেই ঘন অন্ধকারের মাঝেই আমি স্পষ্ট শুনতে পেলাম আমার ঘরের কাঠের দরজাটিতে কেউ একজন নখ দিয়ে খুব আস্তে আস্তে আঁচড়াচ্ছে এবং সেই নখের আঁচড়ানোর শব্দটা এতই তীক্ষ্ণ ছিল যে আমার কান দিয়ে যেন রক্ত বের হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। আমি ভয়ে বিছানার এক কোণায় গিয়ে গুটিসুটি মেরে বসে রইলাম এবং মনে মনে আল্লাহর নাম জপ করতে লাগলাম কিন্তু সেই ভয়ানক আঁচড়ানোর শব্দ থামার কোনো লক্ষণই ছিল না বরং তা আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হতে লাগল। কিছুক্ষণ পর দরজা আঁচড়ানোর শব্দটা হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল এবং আমি কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার আগেই অনুভব করলাম যে আমার ঠিক মাথার ওপরের কাঠের সিলিং থেকে টুপটুপ করে ঠান্ডা পানির মতো কিছু একটা পড়ছে এবং যখন আমি হাত দিয়ে তা স্পর্শ করলাম তখন বুঝলাম ওটা পানি নয় বরং অত্যন্ত আঠালো এবং দুর্গন্ধযুক্ত এক ধরনের তরল যা রক্ত ও পুজের মিশ্রণের মতো গন্ধ ছড়াচ্ছিল। আমি আতঙ্কিত হয়ে টর্চের আলো ওপরের দিকে ফেলতেই যা দেখলাম তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না কারণ সিলিংয়ের কাঠের তক্তাগুলো ভেদ করে এক জোড়া কুচকুচে কালো ও লোমশ হাত নিচের দিকে ঝুলে আছে এবং সেই হাতের আঙুলগুলো অস্বাভাবিক রকমের লম্বা ও বাঁকা ছিল। হাত দুটো ধীরে ধীরে নড়াচড়া করছিল যেন তারা নিচে বসে থাকা আমাকে ধরার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছে এবং একই সাথে ঘরের চারপাশ থেকে এক অদ্ভুত ফিসফিসানি আওয়াজ ভেসে আসছিল যা কোনো পরিচিত ভাষায় ছিল না বরং মনে হচ্ছিল কোনো প্রাচীন ও অভিশপ্ত মন্ত্র কেউ আমার কানের খুব কাছে এসে উচ্চারণ করছে। আমি চিৎকার করার আপ্রাণ চেষ্টা করলাম কিন্তু আমার গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হলো না যেন কোনো এক অদৃশ্য শক্তি আমার কণ্ঠনালীকে শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে এবং আমার চারপাশের বাতাস দিন দিন ভারী হয়ে উঠছিল। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মাঝেই হঠাৎ ঘরের দক্ষিণ দিকের জানালাটা প্রচণ্ড জোরে আছাড় খেয়ে খুলে গেল এবং বাইরের সেই কনকনে ঠান্ডা বাতাস ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ার সাথে সাথে সেই লোমশ হাত দুটো সিলিংয়ের ভেতরে অদৃশ্য হয়ে গেল। আমি বুঝতে পারছিলাম যে এই বাড়িতে একা থাকা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল এবং এই অলৌকিক ও অপার্থিব শক্তির হাত থেকে বাঁচতে হলে আমাকে যেকোনো উপকারে সকাল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে কিন্তু রাতের যেন আর শেষই হচ্ছিল না। আমি বিছানা থেকে নেমে কোনোমতে দরজা খুলে বারান্দায় আসার চেষ্টা করলাম কিন্তু বারান্দায় পা রাখতেই দেখলাম পুরো উঠান জুড়ে সেই কালচে ধোঁয়া আরও ঘনীভূত হয়েছে এবং দিঘির পাড়ের সেই পুরনো পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ির দিক থেকে এক বুকফাটা কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে যা কোনো নারীর কান্নার মতো শোনাচ্ছিল কিন্তু তার মধ্যে এক তীব্র হিংস্রতা লুকিয়ে ছিল। কান্নার শব্দটা আস্তে আস্তে আমাদের বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছিল এবং আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম যে সেই ঘন কুয়াশার মধ্য দিয়ে এক সাদা কাপড় পরিহিত অবয়ব শূন্যে ভাসতে ভাসতে আমাদের প্রধান ফটকের দিকে অগ্রসর হচ্ছে যার চুলগুলো মাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছিল। আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না এবং প্রচণ্ড ভয়ে আমার মাথা ঘুরে গেল যার ফলে আমি বারান্দার মেঝেতেই জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলাম। যখন আমার জ্ঞান ফিরল তখন ভোরের আলো ফুটে উঠেছে এবং পাখির কিচিরমিচির শব্দে চারপাশ মুখরিত কিন্তু আমার পুরো শরীর তখনো যন্ত্রণায় কাঁপছিল এবং আমি লক্ষ্য করলাম আমার ডান হাতের কবজিতে কালো রঙের পাঁচটি আঙুলের দাগ বসে গেছে যা দেখতে কোনো পুড়ে যাওয়া ক্ষতের মতো লাগছিল। গ্রামের মানুষ পরে আমাকে জানিয়েছিল যে ওই পরিত্যক্ত জমিদার বাড়িতে বহুকাল আগে এক অন্যায্য মৃত্যু হয়েছিল এবং তারপর থেকেই সেই দিঘির পাড়ে এক ভয়ানক অশুভ আত্মার বাস যা মাঝে মাঝেই একা পেয়ে মানুষকে আক্রমণ করে। আমি সেই দিনই নাটোরের সেই পৈতৃক বাড়ি এবং জমি ছেড়ে চিরতরে শহরে চলে আসি এবং আজো সেই রাতের কথা মনে হলে আমার পুরো শরীর ভয়ে শিউরে ওঠে ও আমি ঘুমাতে পারি না।
আপনারা যারা এতক্ষণ ধরে এই হাড়হিম করা সত্য ঘটনাটি শুনলেন, আপনাদের জীবন বা চারপাশও যদি এমন কোনো অলৌকিক, রহস্যময় কিংবা অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার মুখোমুখি হয়ে থাকে, তবে তা আমাদের কাছে লিখে পাঠিয়ে দিন। আপনার সেই ভয়ানক অভিজ্ঞতা দেশ ও বিদেশের লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা সদা প্রস্তুত। আপনার নিজের নাম, সঠিক অবস্থান এবং সম্পূর্ণ ঘটনাটি সুন্দরভাবে লিখে আমাদের কাছে পাঠানোর জন্য একটি বিশেষ বৈদ্যুতিন ডাক ঠিকানা ব্যবহার করুন। ঠিকানাটি হলো, আপনার নিজের নামটি ইংরেজি অক্ষরে কোনো ধরনের ফাঁকা জায়গা না রেখে সম্পূর্ণ একসাথে লিখবেন এবং তারপর @sadik13xx.33mail.com যুক্ত করে দেবেন। মনে রাখবেন, নাম লেখার সময় চিঠির মাঝে যেন কোনো খালি জায়গা বা স্পেস না থাকে, অন্যথায় আপনার মূল্যবান বার্তাটি আমাদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাবে না।

Comments